বিতর্কিত মার্কিন ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং তার বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগের জেরে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবার। রাজা চার্লসের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ‘প্রিন্স’ উপাধি বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে উইন্ডসরের ঐতিহাসিক প্রাসাদ ‘রয়্যাল লজ’ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে বাকিংহাম প্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অ্যান্ড্রু এখন থেকে ‘অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর’ নামে পরিচিত হবেন। রাজা আনুষ্ঠানিকভাবে তার সকল রাজকীয় উপাধি, মর্যাদা ও সম্মান বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে তিনি ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ উপাধিসহ অন্যান্য রাজকীয় পরিচয় ত্যাগ করেছিলেন। নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন যৌন নিপীড়নের শিকার ভার্জিনিয়া জিউফ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ ওঠে যে, কিশোরী বয়সে তিনি তার সঙ্গে একাধিকবার যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন। যদিও অ্যান্ড্রু সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, রাজপরিবার মনে করছে, অভিযোগ অস্বীকার সত্ত্বেও এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রাজকীয় মর্যাদার সুরক্ষায় জরুরি ছিল।
অ্যান্ড্রু ২০০৪ সাল থেকে উইন্ডসরের রয়্যাল লজে বসবাস করছিলেন। তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে এবং তিনি এখন স্যান্ডরিংহাম এস্টেটের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন, যার ব্যয় রাজা চার্লস বহন করবেন।
অ্যান্ড্রুর দুই কন্যা ইউজেনি ও বিট্রিস ‘প্রিন্সেস’ উপাধি বহাল রাখবেন। তিনি এখনো ব্রিটিশ সিংহাসনের অষ্টম উত্তরাধিকারী। তবে তার সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনকেও রয়্যাল লজ ত্যাগ করতে হবে এবং তিনি আলাদাভাবে বসবাস করবেন।
জিউফ্রের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, “তিনি সত্য ও সাহসের মাধ্যমে এক ব্রিটিশ প্রিন্সকে পতনের মুখে ফেলেছেন।”
এই ঘটনাকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মর্যাদাহানিকর অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :