বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক রাঙালেন সেঞ্চুরিতে। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে মাঠে নামার দিনই তিনি তুলে নিলেন সেঞ্চুরি—যা তাকে নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে।
টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শতাব্দীর ইতিহাসে মাত্র ৮৪ জন ক্রিকেটার এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ১১ জন শততম টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়তে পেরেছেন—এলিট তালিকায় নতুন নাম যোগ করলেন মুশফিক। তার এই অর্জনে প্রশংসা এসেছে দেশ-বিদেশের সাবেক তারকাদের কাছ থেকেও, যার মধ্যে আছেন রিকি পন্টিংের মতো কিংবদন্তি।
ইনিংসের শুরুর দিকে অবশ্য কিছুটা অস্বস্তির মুহূর্ত পেরোতে হয় তাকে। দিনের চতুর্থ বলে ম্যাথিউ হামফ্রেসের শক্তিশালী এলবিডব্লিউ আবেদনে আম্পায়ার নাকচ করেন। পরের ডেলিভারিতেও বেঁচে যান অল্পের জন্য। তবে ধৈর্য ধরে খেলতে খেলতেই সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে যান অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
অবশেষে জর্ডান নেইলের ওভারে একটি সহজ সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছান মুশফিক—বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক লিখে দিয়ে।
শততম টেস্টে সেঞ্চুরির এই কীর্তির সূচনা হয়েছিল ১৯৬৮ সালে, যখন ইংলিশ ব্যাটার মাইকেল কলিন কাউড্রে প্রথমবারের মতো এমন সেঞ্চুরি করেন। এরপর আরও দশজন এই সাফল্য অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে জো রুট ও ডেভিড ওয়ার্নার আলাদা গুরুত্বের দাবি রাখেন—দুজনই শততম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্নার করেছিলেন ঠিক ২০০ রান, আর ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক রুট সর্বোচ্চ ২১৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
মুশফিকুর রহিমের এই সেঞ্চুরি তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়—বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যও এক অনন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
আপনার মতামত লিখুন :