মাদুরোর পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের শঙ্কা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৬, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার পর এবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানায়, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। দেশটিতে টানা সাত দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন বড় ভূমিকা রাখছে।

এর আগে রিপাবলিকান সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র লিন্ডসে গ্রাহাম ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা টুপি পরে বলেন, তিনি আশা করছেন ২০২৬ সাল হবে এমন একটি বছর, যখন ইরানকে ‘আবার মহান’ করা সম্ভব হবে—যা রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মাদুরোকে অপহরণের আগের দিনই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানে যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। যদিও বাস্তবে তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করার নির্দেশ দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চরম চাপ সৃষ্টি করেছে। এরই জেরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে মাদুরোকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে কিউবা, কলম্বিয়া, মেক্সিকো এমনকি ডেনমার্কের অধিভুক্ত গ্রিনল্যান্ডের নামও আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব ইঙ্গিত নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।