পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালীন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক মহড়া ও নৌ-নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্রণালিটি বন্ধ রাখা হয়। এ সময় বিপ্লবী গার্ড বাহিনী লাইভ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এই সামরিক তৎপরতার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, শক্তিশালী নৌবহরও সব সময় নিরাপদ থাকে না। তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল।
তবে একই সময়ে তুলনামূলক সংযত সুরে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, আলোচনার মাধ্যমে টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, যদিও যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই শক্তি প্রদর্শনের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলবাজারে—প্রথমে দামে অস্থিরতা দেখা দিলেও আলোচনার অগ্রগতির ইঙ্গিতে তা কিছুটা কমেছে।
এখন নজর তেহরানের প্রতিশ্রুত প্রস্তাবের দিকে—যা আগামী দিনে এই দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত করবে, না কি আরও ঘনীভূত করবে, তা সময়ই বলে দেবে।
আপনার মতামত লিখুন :