সামরিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক চাপের ছায়ায় ফের কূটনীতির টেবিলে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বৃহস্পতিবার জেনেভা-য় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে দুই দেশ—এমন এক সময়ে, যখন ওয়াশিংটন নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে বাড়ানো হয়েছে।
২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। কূটনৈতিক মহলে এই আলোচনাকে সম্ভাব্য সংঘাত ঠেকানোর “শেষ সুযোগ” হিসেবে দেখা হলেও কোনো চুক্তির রূপরেখা এখনও স্পষ্ট নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির পক্ষে কথা বললেও, ইরানকে চাপ দিতে সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। তবে কী শর্তে আলোচনা এগোবে বা কেন এখন সামরিক পদক্ষেপের কথা উঠছে—সে বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
ইরান বরাবরের মতোই নিজেদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে পরমাণু কর্মসূচিতে সীমিত ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। আগের মতোই ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
এর মধ্যেই ওয়াশিংটন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইরানের ১২টি তেলবাহী জাহাজ ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এই “সর্বোচ্চ চাপ” নীতি ইরানকে পরমাণু অস্ত্র ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন থেকে বিরত রাখতেই।
তেহরান থেকেও এসেছে কড়া বার্তা। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের সতর্ক করে বলেছেন, প্রতারণা বা মিথ্যা অজুহাতে হামলা হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে। তবে একই সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সমঝোতার আশা দেখিয়েছেন এবং সর্বোচ্চ নেতা খামেনির নির্দেশনায় আলোচনায় ইতিবাচক ফল প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের মজুত পারমাণবিক উপাদান দ্রুতই অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যকে যেকোনো মুহূর্তে বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :