সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে নতুন কৌশল

সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব থেকে নতুন করে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, এই তেল লোহিত সাগর সংলগ্ন সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে সংগ্রহ করা হবে, যা হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত। ফলে সামরিক বা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এড়িয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আগামী এপ্রিলের শেষ ভাগে তেল লোডিং শুরু হয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, পৃথকভাবে ১ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী একটি জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছে। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের অনুমোদন না পাওয়ায় বাংলাদেশে যাত্রা করতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প রুটে আমদানি নিশ্চিত করা বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এতে সরবরাহে হঠাৎ বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি কমবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পর এই তেল থেকে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিনসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করা হবে, যা দেশের পরিবহন ও শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক চাহিদা পূরণে ভবিষ্যতেও বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির কৌশল অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা এখন নীতিনির্ধারণের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে।