কোম, ইরান — যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চলমান যুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তিনি অংশ নিচ্ছেন না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস একটি কূটনৈতিক নথির বরাতে এই তথ্য জানায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী খামেনি ইরানের পবিত্র শহর কোমে চিকিৎসাধীন। কোম শহর শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র কেন্দ্র এবং ধর্মীয় রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এটি প্রথমবারের মতো খবরের মাধ্যমে প্রকাশিত হলো যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান জনসমক্ষে অজ্ঞাত ছিল।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, “মোজতবা খামেনি কোমে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন এবং তিনি এখন সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারছেন না।” এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই অবগত ছিল, কিন্তু তা আগে প্রকাশ করা হয়নি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির লাশ দাফনের জন্য কোম শহরে একটি সমাধিসৌধ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতাকেও ওই সমাধিসৌধে দাফন করা হতে পারে, যা তার শারীরিক অবস্থার সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ সামরিক হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হন; একই ঘটনায় তার মা, স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং এক ছেলে নিহত হন। এর পরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। তবে এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তার কণ্ঠও শোনা যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার নামে বিবৃতি পাঠ করা হলেও, কোন রেকর্ডিং ছাড়া তার স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।
গত সোমবার (৬ এপ্রিল) তেহরান থেকে প্রকাশিত একটি এআই-নির্মিত ভিডিওতে দেখা গেছে, খামেনিকে একটি যুদ্ধকক্ষে প্রবেশ করতে এবং ডিমোনায় ইসরাইলের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মানচিত্র বিশ্লেষণ করতে। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন যে খামেনি দায়িত্বে রয়েছেন, মার্কিন রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে, তিনি কোমায় চিকিৎসাধীন বা আহত অবস্থায় আছেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
আপনার মতামত লিখুন :