ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেল-গ্যাস খাতে রাশিয়ার আয় প্রায় দ্বিগুণ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৯, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া।

তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির জ্বালানি খাত থেকে রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে যায়, যা বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশের সরবরাহ ব্যাহত করে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে রাশিয়ার জ্বালানি আয়ে। প্রাথমিক উৎপাদন তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, দেশটির খনিজ নিষ্কাশন কর থেকে এপ্রিল মাসে রাজস্ব বেড়ে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন রুবলে পৌঁছাতে পারে, যা মার্চ মাসে ছিল প্রায় অর্ধেক।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক হিসেবে রাশিয়ার জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি তাৎপর্যপূর্ণ আর্থিক সুবিধা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুতর জ্বালানি সংকটগুলোর একটি সৃষ্টি করেছে, যা বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

যদিও প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, তবু জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এদিকে, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে হরমুজ প্রণালীতে বিকল্প নৌপথ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল রয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রাখছে।