ইসলামাবাদে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ অনিশ্চয়তায়, লেবানন ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১০, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ন

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ তথ্য জানায়।

প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের।

তবে নির্ধারিত এই সংলাপ শেষ পর্যন্ত শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা লেবানন ইস্যুকে ঘিরেই মূল জটিলতা দেখা দিয়েছে।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও, তার পরপরই লেবাননকে চুক্তির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—এ নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন, লেবাননও এই সমঝোতার আওতায় থাকবে। তবে পরবর্তীতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপর লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী, যেখানে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ১,২০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতির জেরে ইরান জানিয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়। তবে এখন পর্যন্ত সেই শর্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে কূটনৈতিক মহল জানিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম কান দাবি করেছে, ইরান আপাতত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপ স্থগিত করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান চায় লেবাননকে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হোক—যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবস্থান ভিন্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা এবং লেবানন ইস্যুর জটিলতায় মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।