ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি, আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন ভ্যান্স


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ত্যাগ করে দেশে ফিরছে।

রোববার ইসলামাবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, “দুঃখজনকভাবে আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বড় ক্ষতি।” তিনি জোর দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘অলঙ্ঘনীয় শর্ত’ বা রেড লাইন স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল, তবে সেগুলো তেহরান গ্রহণ করেনি।

ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল অচলাবস্থার কেন্দ্র ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। কিন্তু এই শর্তসহ অন্যান্য প্রস্তাবে ইরান সম্মতি দেয়নি।

তিনি আরও জানান, আলোচনার পুরো সময়জুড়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ রাখেন, যা পরিস্থিতির গুরুত্বই নির্দেশ করে।

এই বৈঠকটি ছিল গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের সংলাপ এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত। আলোচনার ফলাফলের ওপর দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছিল।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এ পথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইরান সরকার জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষ হলেও সংলাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কারিগরি পর্যায়ে নথিপত্র বিনিময় চলবে এবং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যা সংলাপের গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা তুলে ধরে।

বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক অগ্রগতি না হলেও এই আলোচনা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে পারমাণবিক ইস্যুতে আস্থার ঘাটতি দূর না হলে স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত রয়ে যাবে।