হরমুজ প্রণালিতে ২৪ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন বিধ্বস্ত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ন

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল নিয়মিত নজরদারি মিশনের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যদিও এর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

বিধ্বস্ত হওয়া ড্রোনটি ছিল MQ-4C Triton—যা দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে বিস্তীর্ণ সমুদ্র অঞ্চলে নজরদারি চালাতে সক্ষম। উন্নত সেন্সর ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সমৃদ্ধ এই ড্রোনকে প্রায়ই “ডানাযুক্ত উপগ্রহ” বলা হয়। এটি তৈরি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার Northrop Grumman, এবং একটি ইউনিটের মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ডলারের কাছাকাছি।

মার্কিন নৌবাহিনীর Naval Safety Command এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ড্রোনটি ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত সিগোনেল্লা নৌঘাঁটি থেকে পরিচালিত হচ্ছিল এবং হরমুজ প্রণালিতে তিন ঘণ্টার একটি রুটিন নজরদারি মিশনে অংশ নেয়। তবে মিশন শেষে ঘাঁটিতে ফেরার পথে এটি হঠাৎ জরুরি বিপদ সংকেত পাঠাতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্ল্যাটফর্মগুলোর দাবি, প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থানরত ড্রোনটি আকস্মিকভাবে দ্রুত নিচে নেমে যায়—যা প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক ঘটনার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করে বলেনি, এটি শত্রুপক্ষের হামলার শিকার হয়েছিল কি না।

এই ঘটনাকে ‘ক্লাস এ মিশ্যাপ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—যা সাধারণত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা সম্পূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ধ্বংসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত ব্যয়বহুল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ড্রোন হারানো কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ঘোষিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাত্র দুই দিনের মাথায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে এটি নিছক প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কৌশলগত বিশ্লেষকদের মধ্যে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। এই অঞ্চলে যেকোনো সামরিক বা প্রযুক্তিগত অস্বাভাবিকতা আন্তর্জাতিক বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত এই ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।