গ্লোব জনকণ্ঠের সম্পদ নিলামে তুলছে জনতা ব্যাংক


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ন

খেলাপি ঋণ আদায়ের অংশ হিসেবে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্পগোষ্ঠীর সম্পদ নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। আগ্রহী দরদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অংশগ্রহণে ইচ্ছুকদের নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্যের ১০ শতাংশ পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে জমা দিতে হবে। নিলামের সময় আদালতের বিধি অনুসারে দর আহ্বান করা হবে। তবে সম্পদ বিক্রির পর কোনো বিরোধ দেখা দিলে তার দায়ভার ব্যাংক বা আদালত নেবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র মতে, ২০২১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান-এর সুপারিশে গ্লোব জনকণ্ঠ গ্রুপকে বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর অনাপত্তির ভিত্তিতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে জনতা ব্যাংক পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রায় ২২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে।

গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের আওতায় মোট আটটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স, গ্লোব ইনসেক্টিসাইডস, গ্লোব কেবলস, গ্লোব প্রিন্টার্স এবং দৈনিক জনকণ্ঠ উল্লেখযোগ্য। তবে বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই কার্যত অচল। গত মার্চে দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ তাদের ছাপা ও অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, গোষ্ঠীটির ওপর বিপুল ঋণের চাপ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ পাওনাদারের কাছে দেনা রয়েছে এবং অধিকাংশ সম্পদই ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা।

এদিকে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর খেলাপি ঋণের চাপে নাজুক অবস্থায় রয়েছে জনতা ব্যাংক। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকটির বিতরণ করা মোট ঋণের বড় অংশই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বেক্সিমকো, এস আলম, থার্মেক্স ও অ্যাননটেক্সের মতো বড় গ্রুপের ঋণ পুনরুদ্ধারেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী প্রথমে নিলামের মাধ্যমে ঋণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এতে সফল না হলে পরবর্তী ধাপে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্লোব জনকণ্ঠের সম্পদ নিলামের এই উদ্যোগ দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের চলমান চ্যালেঞ্জকেই সামনে নিয়ে এসেছে।