লিটন দাস আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য টেস্ট ব্যাটারদের একজন বলা হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে দারুণ দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তার তৃতীয় টেস্ট শতক।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান শান মাসুদ। শুরু থেকেই পাকিস্তানি পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা তানজিদ হাসান তামিম কিছুটা আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ২৬ রান করে ফেরেন তিনি। আগের ম্যাচে ধারাবাহিক পারফর্ম করা মুমিনুল হক-ও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।
লাঞ্চের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বাংলাদেশের জন্য। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত আউট হলে ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে দল।
সেখান থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন দাস। এক প্রান্ত আগলে রেখে নিচের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। কখনো তাইজুল ইসলাম, কখনো তাসকিন আহমেদ, আবার কখনো শরিফুল ইসলাম তাকে দারুণ সমর্থন দেন।
বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি বাংলাদেশের ইনিংস পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত শটে ইনিংস সাজিয়ে লিটন নিজের শতক পূর্ণ করেন, যা আসে দলের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে।
প্রথম ইনিংসে ৭০.২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৫৫ রান। ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন দাস, তার সঙ্গে উইকেটে ছিলেন শরিফুল ইসলাম।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে লিটনের এই ইনিংস শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দলের জন্যও বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। কঠিন উইকেটে তার ধৈর্য, শট নির্বাচন এবং দায়িত্বশীল ব্যাটিং বাংলাদেশের সংগ্রামকে লড়াইয়ে পরিণত করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :