কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রখ্যাত আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন আর নেই। আজ শনিবার বিকেল ৫:৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে রাজনৈতিক অঙ্গন, আইনজীবী সমাজ এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এক নজরে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কীর্তি:
ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন ছিল দেশ ও মানুষের সেবায় উৎসর্গীকৃত।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক:
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
বঙ্গবন্ধুর আসন থেকে সংসদ সদস্য:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন।
আইনজীবী সমাজের শীর্ষ নেতা:
তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংকটকালের কাণ্ডারি: ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংকটের সময়ে তিনি তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান আইনজীবীদের একজন হিসেবে আইনি লড়াইয়ে অত্যন্ত সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দলীয় নেতৃত্ব:
তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং পরবর্তীতে দলটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
শোক ও সমবেদনা:
সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই নেতার অবদানের কথা স্মরণ করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
আইনজীবী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানান, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের চলে যাওয়া দেশের আইনি অঙ্গন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি। নীতি ও আদর্শের প্রতি তাঁর অবিচল নিষ্ঠা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
মরহুমের জানাজার সময় ও দাফনের স্থান পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে জানানো হবে।
আপনার মতামত লিখুন :