মোংলা বন্দরকে নতুন অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৫, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ন

মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে মোংলায় আরও শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বন্দর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের মোংলায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইনভেস্ট বাংলাদেশ) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। আলোচনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিভিন্ন সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে মোংলাকে ঘিরে শিল্পায়নের নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি জানান, মোংলায় আরও শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া মোংলা বন্দর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তুলতে সরকার উদ্যোগ নেবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মোংলাকেন্দ্রিক শিল্পায়ন, পণ্য পরিবহন, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মতবিনিময়কালে মধ্যপ্রাচ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করায় চীনা প্রতিনিধিদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র শুধু বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়ার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোংলা বন্দরকে ঘিরে শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া গেলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।