প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে ‘হাদিস’ বলার পর দায়িত্ব হারালেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক


বাংলার মুখ প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করার পর দায়িত্ব হারিয়েছেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান। তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব জেতী প্রু।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানোর কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

যে বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

এর আগে গত ১ নভেম্বর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের আওতায় ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মসিউর রহমান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে হাদিস হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বক্তব্যে মসিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে স্লোগানটি দিয়েছেন, সেটিকে আমি হাদিস বললে অনেকে হয়তো মনে করবেন, পরবর্তী পোস্টিংয়ের জন্য তাকে তেল মারছি। কিন্তু আমি বলবো, এটি একটি শাশ্বত বাণী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার আগে আমরা, সবার আগে দেশ—এ কথা কে অস্বীকার করতে পারবেন? স্বার্থপর, যার দেশপ্রেম নেই, সেই বলতে পারে, না, আমি মানি না। আমাকে বাদ দিয়ে আমরা সবাই মিলে থাকব, আর সবার আগে থাকবে দেশ। তারপরে “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এটা হাদিস, হাদিস। এটা শাশ্বত বাণী।’

মসিউর রহমানের বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘এটা হুজুররা বললে হাদিস হয়ে যেত। তো ওনার মুখে দাড়ি নেই, টুপি পরেন না, এজন্য হাদিস হয়নি! এটা হাদিস।’

রাজনৈতিক স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরই তাঁর দায়িত্ব পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন জারি হলো। তবে প্রজ্ঞাপনে এ বিতর্কের সঙ্গে দায়িত্ব পরিবর্তনের কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি।