দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৬ জন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫২ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ছাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে তিনজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন এবং খুলনা বিভাগে একজন রয়েছেন।
চলতি বছরের মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে রোগী মারা যান।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৫৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৫৫০ জন।
বিভাগভিত্তিক ভর্তি রোগীর পরিসংখ্যানে চট্টগ্রামে ২৯৫ জন, খুলনায় ২২১ জন, বরিশালে ২১৩ জন, রাজশাহীতে ১৪৮ জন, ময়মনসিংহে ৮৩ জন, রংপুরে ৬৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৪ জন ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ জন।
পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উদ্বেগজনক। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে মৃত্যুর উচ্চ হার এবং নভেম্বরেও নতুন রোগী ভর্তি অব্যাহত থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি পরিষ্কার এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :