পার্বত্য অঞ্চলে রাবার ফ্যাক্টরির আতঙ্কে কোয়ান্টামের ৩ হাজার শিক্ষার্থী!


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মার্চ ২৭, ২০২৫, ৫:৩১ পূর্বাহ্ন

কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। বান্দরবান লামার স্বনামধন্য আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে ৩ হাজারের মতো অসহায় বঞ্চিত শিশু-কিশোর-কিশোরি লেখাপড়া করছে। এটি পার্বত্য অঞ্চলের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানকার আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী এখন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল এবং বুয়েটে পড়ছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় শিশু-কিশোর কুচকাওয়াজেও অনবদ্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে গত কয়েক বছর ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু কিছুদিন ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, যার একটাই কারণ স্কুলের পাশেই রাবার ফ্যাক্টরি স্থাপন। আন্ধারি খালের উৎপত্তিস্থলে এই রাবার ফ্যাক্টরি স্থাপনের কাজ শুরু করেছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ। ফ্যাক্টরি স্থাপনের মধ্যে দিয়ে রাবার প্রসেসিং-এর কাজ শুরু হয়ে গেলে এর বর্জ্য সেখানকার পরিবেশ দূষণ করবে। চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়াবে এবং শব্দ দূষণ হবে। এতে স্কুলটির কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে পড়বে। পাহাড়ের স্নিগ্ধ পরিবেশে লেখাপড়াসহ শারীরিক-মানসিক সুস্থতা নিয়ে তারা যেভাবে বেড়ে উঠছিল, সেটা বাঁধা পাবে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য ও অর্জনে চরমভাবে ব্যাঘাত ঘটবে, এই আশঙ্কাই সৃষ্টি হয়েছে রাবার ফ্যাক্টরি স্থাপনকে ঘিরে।

নিচে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের কিছু অর্জন তুলে ধরা হলো :

মেডিকেল বুয়েট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫০ জন শিক্ষার্থী চান্স পেয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগপ্রাপ্তদের একাংশ

 

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় শিশু-কিশোর কুচকাওয়াজে টানা ৫ বার ১ম (২০১৫-১৯)

২০১৫ সালে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা সৃষ্টি করে এক বিরল দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশ ও কুচকাওয়াজের রাষ্ট্রীয় আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে তারা ঢাকায় আসে। এমনকি তাদের বেশিরভাগের জন্যে ঢাকায় আসাও ছিল এবারই প্রথম। স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ মার্চপাস্টে প্যারেড বড় ও ছোট দুটি দলই যুগ্মভাবে অর্জন করল প্রথম স্থান। ২০১৬-২০১৯ পরবর্তী ৪ বছরেও এই বিজয়ের ধারা অব্যাহত ছিল। এরপরে কোভিড-১৯ মহামারি ও বিভিন্ন কারণে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় নি।

পাবলিক পরীক্ষায় ১০০% পাশ
পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের পাশের হার ১০০%। পিইসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি—প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আর এর কারণ হলো ক্লাসে নিয়মিত লেখাপড়া করা।

ক্রীড়ানৈপুণ্যে দেশসেরা স্কুল পর পর ৪ বার (২০১৭-২০)
জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার স্কুলভিত্তিক যে-কোনো আসরে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল মানেই চমকপ্রদ অর্জন! ৪ বার (২০১৭-২০) ক্রীড়ানৈপুণ্যে দেশসেরা স্কুলের তালিকায় রয়েছে এই স্কুল।

জিমন্যাস্টিক্স

• ১৬ তম সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৯। বাংলাদেশ দলের ৯ জনের মধ্যে ৬ জনই ছিল এই স্কুলের শিক্ষার্থী। বাংলাদেশের অর্জিত ২৫টি পদকের ২১টিই পেয়েছে তারা।

হ্যান্ডবল


পর পর ৮ বার (২০১৩-২০২৩) অংশ নিয়ে ৮ বারই জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল হ্যান্ডবল টিম। কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০-২১ সালে প্রতিযোগিতা বন্ধ ছিল।

খো খো
• ২০১৯-এ ১৩ তম সাউথ এশিয়ান গেমস-এ বাংলাদেশ খো খো জাতীয় দলের ১২ জনের ১০ জনই ছিল তারা।
• ২০১৭-১৮ বিজয় দিবস প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন।
• ২০১৪-১৫ স্বাধীনতা কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন।

টেবিল টেনিস

২০২০-২৪ বালিকা একক ইভেন্টে পরপর ৪ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১৫-১৭ আন্তঃস্কুল জাতীয় প্রতিযোগিতায় বালক দ্বৈত ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় কোয়ান্টারা।

সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছে ২ শতাধিক ছাত্র

কোয়ান্টাম কসমো স্কুলে রয়েছে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ভোকেশনাল বিভাগ। এখান থেকে পাশ করা ২ শাতাধিক ছাত্র এখন দেশের বিভিন্ন পাবকিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে।

কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে! শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন রাবার ফ্যাক্টরি স্থাপনের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। নয়তো পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শিক্ষার ব্যাঘাতের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে! এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার—শিক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।