গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে নিহত ২৫


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৭, ২০২৫, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বর্বর হামলায় একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১৩৮ ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন অন্তত ৭০০ জন। এর মধ্যেই নেমে এসেছে আরও এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। ত্রাণ নিতে আসা জনতার ওপর উল্টে পড়া একটি ত্রাণবাহী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। গাজা সিভিল ডিফেন্স জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্ধারিত একটি অনিরাপদ সড়ক দিয়ে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো পাঠানো হয়। জনাকীর্ণ অবস্থায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জনতার ওপর উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তীব্র খাদ্য সংকটে পড়া হাজারো মানুষ ত্রাণ সংগ্রহে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। অনেকেই ট্রাকের ওপর উঠে পড়েন, এতে চালক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।

অপরদিকে, গাজা পুরোপুরি দখলে নিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত জানান, গাজায় সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।

তবে বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ এই পরিকল্পনাকে ‘চরম ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, গাজা দখলের চিন্তা অবাস্তব এবং তা ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করবে।

নেতানিয়াহুর যুদ্ধ সম্প্রসারণের বিরোধিতায় ইসরায়েলসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ চলছে। ইসরায়েলি নাগরিকরাও কাঁধে চাল-আটার বস্তা এবং ক্ষুধার্ত শিশুদের ছবি নিয়ে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, সামরিক আগ্রাসন চলতে থাকলে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি ইসরায়েলি জিম্মিদের জীবনও বিপন্ন হবে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল সম্প্রতি রাফাহ সীমান্ত দিয়ে সীমিত আকারে ত্রাণ প্রবেশে সম্মতি দেয়। মিশরের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে প্রায় এক হাজার ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। এতে সরবরাহ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ টন ত্রাণ।

তবে সংস্থাটির দাবি, দৈনিক ছয় শতাধিক ত্রাণবাহী ট্রাকের প্রয়োজন হলেও এখনও সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নানা শর্তের কারণে ত্রাণ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ নিতে গিয়ে নতুন করে প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে গাজাজুড়ে।