:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
ঢাকা, [১৩ আগস্ট ২০২৫] – আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়া নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার সচিবালয়ে ‘ইউ পেনশন অ্যাপ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যাংক ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য। তবে তিনি এও সতর্ক করেছেন যে রাজনৈতিক দলগুলো যদি টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেয়, তাহলে সরকারের পক্ষে এ বিষয়ে কিছু করা সম্ভব নয়।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতি নির্বাচনের আগেই আমরা এই বিধানের অপব্যবহার দেখি।” তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “মহীউদ্দীন খান আলমগীর (আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী) তো ঋণখেলাপি হয়েও পাঁচ বছর কাটিয়ে দিয়েছিলেন। এটা সম্ভব হয়েছে আদালতের স্টে অর্ডার এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে।”
নির্বাচনে কালোটাকা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এখনো আমাদের কাছে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। তবে কালোটাকা নিয়ন্ত্রণে দুটি দিক গুরুত্বপূর্ণ – উৎস এবং প্রক্রিয়া। গত কয়েক বছরে আমরা উৎস নিয়ন্ত্রণে কিছু সাফল্য পেয়েছি। আগে যেভাবে ব্যাংক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং মিডিয়া একই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকত, এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, “এখনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনকেই এ বিষয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, “আমিও একসময় বামপন্থী রাজনীতি করেছি। তখন কত বক্তব্য দিয়েছি – ‘হল বন্ধ করে দাও’, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দাও’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হয়েছে? রাজনৈতিক বক্তব্য আর বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছিলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না’। তবে সরকারি মহল থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
আপনার মতামত লিখুন :