:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহে নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চট্টগ্রাম-ঢাকা জ্বালানি পাইপলাইন আগামী শনিবার (১৬ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। এই ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন দিয়ে মাত্র ১২ ঘণ্টায় ৫০ লাখ লিটার তেল ঢাকা অঞ্চলে পৌঁছাবে, যা আগে ট্যাংকারে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগত। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ইতিমধ্যে একাধিক সফল পরীক্ষামূলক চালান সম্পন্ন হয়েছে।
পাইপলাইনে অত্যাধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা থাকায় পতেঙ্গার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পুরো ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যাবে। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমিনুল হক জানান, এই ব্যবস্থায় বছরে ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত ২৪২ কিলোমিটার ১৬ ইঞ্চি এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার ১০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লায় ডিপো স্থাপনসহ বিভিন্ন স্থানে রিজার্ভার তৈরি করা হয়েছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান পাইপলাইনটি উদ্বোধন করবেন। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জানিয়েছেন, গত জুনে ৩২ হাজার টন ডিজেল সফলভাবে পরিবহনের পর এটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর জন্য প্রস্তুত। সম্পূর্ণ চালু হলে এই পাইপলাইন বছরে ৩২৬ কোটি টাকা আয় করবে, যেখানে ব্যয় হবে মাত্র ৯০ কোটি টাকা। এতে নেট সাশ্রয় হবে ২৩৬ কোটি টাকা।
এই পাইপলাইন দেশের জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি পরিবহন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সড়কপথে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :