হিজাব বিতর্কে শিক্ষক বরখাস্ত, উত্তাল ভিকারুননিসা


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৭, ২০২৫, ২:৫৪ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষক ফজিলাতুন নাহারকে হিজাব পরার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে ‘মিথ্যা’ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডহক কমিটি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বরখাস্তের পর থেকে বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালে বসুন্ধরা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়; শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মিছিল ও সমাবেশ করে শিক্ষককের পক্ষে অবস্থান নেন।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ন্যায় বিচার দাবি করেন, যেমন—‘মিথ্যা অভিযোগ মুছে দাও, শিক্ষকের ন্যায় ফিরিয়ে দাও’, ‘জাস্টিস ফর নাহার আপা’, ‘শিক্ষক জাতির দিশারী, তার সম্মান রক্ষা করি’, ‘শিক্ষকের ন্যায় বিচার চাই, সত্যের বিকল্প নেই’। সকাল থেকে ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীরা মিছিল ও সমাবেশের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

ফজিলাতুন নাহারকে হিজাব পরায় ছাত্রীদের ক্লাস থেকে বের করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দশম শ্রেণির ছাত্রী মেহের আফরোজ কনক বলেন, “আমাদের শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। তিনি কেবল ড্রেসকোড মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।” নবম শ্রেণির ছাত্রী রোকাইয়া বিনতে মাজহার বলেন, “আপা হিজাব পরতে নিষেধ করেননি, কেবল সঠিকভাবে পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্যানেল শিক্ষার্থীরা যারা স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন, তারা শেষ পিরিয়ডে কিছু শিক্ষার্থীকে বাইরে নিয়ে গিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে দিয়েছেন। এই ৮–১০ মিনিটকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।” সাবেক ছাত্রী আনিসা করিম বলেন, “আপার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

ফজিলাতুন নাহার বলেন, “আমি এই কাজটি করিনি। ক্লাসে ২২ জন মেয়ের মধ্যে মাত্র ৯–১১ জন হিজাব পরেছিল। আমি শুধুমাত্র তাদের বলেছি হিজাব পরে স্কুলে আসবে।” ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম জানিয়েছেন, “সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” অধ্যক্ষ বলেন, বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অ্যাডহক কমিটি নিয়েছে।