স্থানীয়দের সঙ্গে চবি শিক্ষার্থীদের রাতভর সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩১, ২০২৫, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে দারোয়ান কর্তৃক মারধরের জেরে টানা রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ালেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষ পর্যন্ত সেনা মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

শনিবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শুরুটা হয়েছিল এক ছাত্রীর দেরিতে হলে ফেরাকে কেন্দ্র করে—দরজা খুলতে গড়িমসি ও পরে হাতাহাতি, এরপর দারোয়ানের হাতে ছাত্রীকে মারধর। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসজুড়ে। রক্ত গরম তরুণরা হলে থেকে বেরিয়ে আসে, আর বিপরীতে স্থানীয়রা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে একজোট হয়। শুরু হয় নির্দয় হামলা, লাঠি-সোটা থেকে ধারালো অস্ত্র—কিছুই বাদ যায়নি।

আহত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ছিলেন নির্লিপ্ত দর্শকের ভূমিকায়, এমনকি আহতদের সাহায্য করতেও এগিয়ে আসেননি। চিকিৎসা কেন্দ্রেও ছিল হাহাকার—একজন চিকিৎসককে সামাল দিতে হয়েছে প্রায় ৬০ জন আহতকে। অক্সিজেন ফুরিয়ে গেলে গুরুতরদের দ্রুত চমেকে পাঠানো হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—প্রশাসনের উদাসীনতা ও স্থানীয়দের লাগাতার দৌরাত্ম্যের কারণেই এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। “আজকের রক্তাক্ত রাতের দায় পুরোপুরি প্রশাসনের”—এমনই ক্ষোভ ঝরে পড়েছে আহতদের কণ্ঠে।

👉 চবি ক্যাম্পাসের অস্থির রাতটি তাই আবারও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—কবে শেষ হবে শিক্ষার্থী-স্থানীয় দ্বন্দ্বের এই রক্তাক্ত অধ্যায়?