ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে দেখা গেছে। প্রশাসনের নির্দেশ ছিল সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রাবাস খালি করতে হবে।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা যায় থমথমে পরিবেশ। প্রবেশ ফটকে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। নারী শিক্ষার্থীদের অনেকে ব্যাগ-বইপত্র হাতে হল ছেড়ে যাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ—রোববার রাতে বহিরাগতদের ন্যক্কারজনক হামলার পর পরিবার থেকেও চাপ আসছে, তাই বাধ্য হয়ে হল ছাড়ছেন।
অন্যদিকে আশরাফুল হক হলসহ কয়েকটি ছাত্রাবাসে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শিক্ষার্থীদের একাংশ জানিয়ে দিয়েছেন—তাঁরা হল ছাড়বেন না। তাঁদের দাবি, রাতারাতি নোটিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে একই কায়দায় ছাত্রাবাস খালি করানো হয়েছিল। এবারও সেই ‘নব্য স্বৈরাচারদের’ ছায়া দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
গত রাতে শিক্ষার্থীরা হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে চার দফা দাবি উত্থাপন করেন:
১. একক (কম্বাইন্ড) ডিগ্রি বহাল রাখতে হবে।
২. বহিরাগতদের হামলার দায়ে প্রক্টোরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে।
৩. উপাচার্যের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।
৪. দায়ী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
আজ সকাল ৮টা থেকে কে আর মার্কেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন—দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ব্ল্যাকআউট চলবে, কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হবে না।
সকাল ৯টার দিকে মাওলানা ভাসানী হল থেকে শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল বের করেন। একই সময়ে অন্য হল থেকেও শ্লোগানমুখর মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বাজারমুখী হয়ে যায়।
আপনার মতামত লিখুন :