বেইজিংয়ে মহাসামরিক কুচকাওয়াজ একই মঞ্চে পুতিন–কিম–শি, যোগ দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্টও


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৫, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

বেইজিং : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত মহাসামরিক কুচকাওয়াজে ইতিহাস গড়ল এক বিরল দৃশ্য। এক মঞ্চে পাশাপাশি দাঁড়ালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। লাল গালিচায় একসঙ্গে পা ফেলে তিন নেতা হাত মিলিয়ে জানান ঐক্যের বার্তা।

চীন এই আয়োজনকে তুলে ধরছে শক্তি ও সংহতির প্রতীক হিসেবে। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল কিম জং-উনের উপস্থিতি—শেষ ছয় বছরে এটি তার মাত্র দ্বিতীয় বিদেশ সফর। এর আগে শি ও পুতিনের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায়নি উত্তর কোরিয়ার এ নেতাকে। কিমের কন্যা কিম জু-এইও ছিলেন তার সঙ্গে, যা উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যম বিশেষভাবে প্রচার করেছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। তবে পশ্চিমা বিশ্বের কোনো শীর্ষ নেতাকে দেখা যায়নি সেখানে।

নিজের ভাষণে শি জিনপিং সতর্ক করে বলেন, “মানবতা আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—শান্তি নাকি যুদ্ধ, সংলাপ নাকি সংঘাত—এখন সেই পথ বেছে নিতে হবে। চীনকে থামানো যাবে না এবং যুদ্ধের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে, যাতে ইতিহাস আর কখনো পুনরাবৃত্তি না হয়।”

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ ছুড়ে লেখেন, “প্রেসিডেন্ট শি ও চীনের মহান মানুষদের জন্য শুভকামনা। তবে যখন পুতিন ও কিমকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করবেন, তখন তাদেরও আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন।”

এই আয়োজনকে বলা হচ্ছে শি জিনপিংয়ের ব্যস্ত কূটনৈতিক সপ্তাহের চূড়ান্ত ধাপ। এর আগে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে তিনি একাধিক দেশকে আতিথেয়তা দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে দমননীতির অভিযোগ তোলেন। একই সম্মেলনে পুতিনও ইউক্রেন যুদ্ধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন।

কুচকাওয়াজে চীন নতুন সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করে বৈশ্বিক দৃষ্টি কাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায় জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নতমানের আন্ডারওয়াটার ড্রোন ও আধুনিক অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম—যা চীনের সামরিক সক্ষমতার নতুন বার্তা বহন করছে।