রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নিজেকে ‘ইমাম মাহাদি’ দাবি করা নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র দাফন নিয়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ২৩ আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যাওয়ার পর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিজের বাড়িতে দরবার শরিফে মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচু বিশেষ বেদিতে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয় আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণরা এই দাফন প্রক্রিয়াকে ইসলাম বিরোধী দাবি করলে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিক্ষুব্ধ জনতা কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে এবং পদ্মার মোড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসময় তারা দরবার ও নুরুল হকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। পুলিশের দুটি গাড়ি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ভাঙচুর হয়। এতে দরবারের ভক্ত, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশসহ ৫০-এর বেশি আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।
বিক্ষোভের আগে জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দে ঈমান-আকিদা রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তারা প্রশাসন ও আলেম সমাজের সাথে আলোচনার পর কবর নিচু করা, দরবারের দেয়ালের রঙ পরিবর্তন ও ‘ইমাম মেহেদি দরবার শরিফ’ লেখা সাইনবোর্ড অপসারণের দাবি জানায়। তবে এই দাবি মানা হওয়ার আগে জনতা বাড়ি ও দরবারে হামলা চালায়।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এই ঘটনায় উত্তেজনা কমাতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, এবং আহতদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :