মৃত্যুর আগে ‘দুঃশাসনের’ জবানবন্দি দিয়ে গেলেন বদরুদ্দীন উমর


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫, ১২:০৮ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুর আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি দিয়ে গেছেন লেখক, গবেষক ও প্রবীণ মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমর। ২০২৪ সালের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’–কে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রূপান্তরমূলক রাজনৈতিক ঘটনা বলে অভিহিত করেন এবং এতে শেখ হাসিনা সরকারের পতনকে এক ‘অভূতপূর্ব দলীয় পলায়ন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পুরো মন্ত্রিসভা, দলীয় কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন— এমন দাবি উঠে এসেছে তার লিখিত জবানবন্দিতে।

রোববার বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার এই জবানবন্দি প্রকাশ করে। কৌঁসুলি বি এম সুলতান মাহমুদ জানান, মৃত্যুর আগেই তিনি জবানবন্দিটি প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছিলেন। এতে উমর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো উপমহাদেশের এক ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, ভারত বা পাকিস্তানেও কখনও এমন ব্যাপকতার জনতার আন্দোলন দেখা যায়নি। ১৯৫২, ১৯৬৯ ও ১৯৯০ সালের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এমন সর্বগ্রাসী দলীয় ভাঙন অতীতে দেখা যায়নি।

জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শেখ মুজিবের মূর্তি ও মুরাল ভাঙচুর করে। এটি কোনো সংগঠিত নির্দেশনা ছাড়াই ঘটে, যা তিনি ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। উমরের মতে, বহু বছর ধরে নির্যাতিত ও অবদমিত জনগণের জমে থাকা ক্ষোভই এই অভ্যুত্থানে বিস্ফোরিত হয়েছে। তার ভাষায়, “শেখ হাসিনাকে যদি মেরে ফেলে নরেন্দ্র মোদী, আশ্চর্য হবেন না”— এ বক্তব্যও উঠে এসেছে তার বিস্ফোরক জবানবন্দিতে।