জেন–জির বিক্ষোভ

নেপালে নিহত বেড়ে ১৯, কয়েক জেলায় কারফিউ


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫, ৫:৫৩ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নেপালে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। কাঠমান্ডু পোস্ট তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশজুড়ে প্রাণহানি ১৯ জনে পৌঁছেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৪৭ জন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সোমবার সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে নেপালে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজধানী কাঠমান্ডু ছাড়াও ছাত্র-জনতা পোখারা, বুতোয়াল, ভারতপুর ও ইতাহারিসহ কয়েকটি শহরের রাস্তায় নামে।

২ ঘণ্টা আগে

নেপালে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে রাজধানী কাঠমন্ডুতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ অমান্য করে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে নেমেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালিয়ান জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জন ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টার, তিনজন সিভিল হাসপাতাল, তিনজন এভারেস্ট হাসপাতাল, একজন কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ এবং একজন ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে মারা গেছেন। নিহতদের মাথা এবং বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। আহতদের সংখ্যা এখনও নির্ধারিত হয়নি। হাসপাতালগুলো রোগীদের থাকার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, এই বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট হল নেপাল সরকারের সিদ্ধান্তে ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করা। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, যাদের অভিযোগ সরকারের দুর্নীতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়া এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা।

সোমবার জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ মিছিল শুরু হলেও পরে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে। পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন কারফিউ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। প্রাথমিকভাবে বানেশ্বরের কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করা হলেও এখন প্রেসিডেন্টের বাসভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, উপ-রাষ্ট্রপতির বাসভবন ও সংবেদনশীল অন্যান্য এলাকায় কারফিউ কার্যকর রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মাসে নেপালের মন্ত্রিসভা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধন, যোগাযোগের প্রতিনিধি নিয়োগ এবং নিয়ম মানা বিষয়ক কর্মকর্তার নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করায় ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬টি প্ল্যাটফর্মে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।