জেন–জির বিক্ষোভ

ভারতবিরোধিতার কারণেই ক্ষমতা হারানোর দাবি অলি’র


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি অভিযোগ করেছেন, ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভের মুখে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও দেশ ছেড়ে পালাননি বলে জানান। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর শিবপুরি ব্যারাকে অবস্থান করছেন।

বুধবার দলীয় মহাসচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে অলি লিখেছেন, “যদি আমি লিপুলেখ ইস্যুতে প্রশ্ন না তুলতাম কিংবা অযোধ্যা ও দেবতা রামের জন্মস্থান নিয়ে ভারতের প্রচলিত দাবির বিরোধিতা না করতাম, তাহলে হয়তো এখনো ক্ষমতায় থাকতাম।”

ভারত-নেপাল সীমান্তের লিপুলেখ গিরিপথ নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। নেপালের দাবি, লিম্পিয়াধুড়া থেকে কালী নদীর উৎপত্তি হওয়ায় কালাপানি ও লিপুলেখ তাদের ভূখণ্ড। অন্যদিকে, ভারত এ অঞ্চলকে উত্তরাখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। অলি তার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছিলেন— “লিম্পিয়াধুড়া, লিপুলেখ ও কালাপানি নেপালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।” এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে তার সরকারের সম্পর্ক টানাপোড়েনে পড়ে।

অলি শুধু সীমান্ত নয়, অযোধ্যা ও দেবতা রামের জন্মস্থান নিয়েও ভারতের প্রচলিত দাবির বিরোধিতা করেন। ২০২০ সালে তিনি প্রকাশ্যে বলেন, “রামের জন্ম ভারতে নয়, নেপালের বীরগঞ্জে।” পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন, “ভারতের রাম কীভাবে নেপালের জনকপুরের সীতাকে বিয়ে করতে পারেন, যখন প্রাচীন আমলে দূরবর্তী বিবাহের প্রচলনই ছিল না?”

তার এই বক্তব্য ভারতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। অলি দাবি করেছেন, ভারতবিরোধী এসব অবস্থানই শেষ পর্যন্ত তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মূল কারণ।