মাত্র ৭২ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ছয় দেশে ইসরায়েলের হামলা


দৈনিক বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫, ৪:৪৭ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তেল আবিব, ১১ সেপ্টেম্বর — মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার অন্তত ছয় দেশে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে কাতার, লেবানন, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনে বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গাজায়, যেখানে একের পর এক আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫০ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের বৈঠকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল বৈঠকটি। এটিই চলতি বছরে ইসরায়েলের সপ্তম বিদেশি হামলা।

গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়
সোমবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৫০ জনে, আহত হয়েছেন ৫৪০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ১৪ জন এবং অনাহারে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৪ হাজার ৬৫৬ জনে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ
সোমবার দুপুরে লেবাননের বেকা ও হারমেল জেলায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হন। বৈরুতের দক্ষিণেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

সিরিয়ায় সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু
সোমবার রাতে হোমস ও লাতাকিয়ায় বিমানঘাঁটি ও সামরিক ব্যারাকে তীব্র হামলা চালায় ইসরায়েল। সিরিয়া এ ঘটনাকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি বলে অভিহিত করেছে।

তিউনিসিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলা
সিদি বু সাঈদ বন্দরে ভিড়ে থাকা একটি জাহাজ ও ব্রিটিশ পতাকাবাহী অপর এক জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়। অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও হতাহতের খবর মেলেনি।

কাতারে হামাস নেতাদের বৈঠক টার্গেট
প্রথমবারের মতো কাতারে হামলা চালায় ইসরায়েল। ওয়েস্ট বে লাগুন এলাকায় কূটনৈতিক দপ্তর, স্কুল ও আবাসিক ভবনের মাঝে বিস্ফোরণ ঘটে।

ইয়েমেনে হুথিদের ওপর আক্রমণ
বুধবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে সানা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে আগস্টেও ইসরায়েলি হামলায় হুথি সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন নিহত হন।

মাত্র তিন দিনে ছয় দেশে ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা জুড়ে।

সূত্র: আল–জাজিরা