বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে আর্থিকভাবে দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে একটি নতুন ব্যাংক। সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’ বা ‘আল ফাতাহ ব্যাংক’। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে অস্থায়ী প্রশাসক বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নতুন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে আলোচনায় আছেন শফিউজ্জামান, যিনি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এখনো চেয়ারম্যান ও এমডি চূড়ান্ত হয়নি। নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যু হলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল মান্নানকে অনেকেই ইতিবাচকভাবে দেখলেও, এমডি পদে শফিউজ্জামানকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শরিয়াহ্ ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে তার সরাসরি অভিজ্ঞতা নেই, অথচ ইসলামি ব্যাংকে এমডি হওয়ার জন্য ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা আবশ্যক। এছাড়া ব্যাংক এশিয়ায় এএমডি থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ৯ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। দুটি ট্রাভেল এজেন্সিকে অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন দেওয়ার পর তারা ঋণ নিয়ে পালিয়ে যায়। যদিও তদন্তে ৯ জনকে দায়ী করা হলেও কেবল এক শাখা ব্যবস্থাপককে চাকরিচ্যুত করা হয়, শফিউজ্জামান কোনো শাস্তি না পেয়ে পরবর্তীতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি হন—যা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন আছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ব্যাংকে ব্যাপক লুটপাট ও ঋণ অনিয়ম হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন চারটি ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক (চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার) সরকারঘনিষ্ঠ হওয়ায় বিশেষ সুবিধা পেত। ফলে ব্যাংকগুলোর ৪৮% থেকে ৯৮% পর্যন্ত ঋণ এখন খেলাপি। তারল্য সংকটে পড়ে তারা আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতেও ব্যর্থ হয়েছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
ইউনিয়ন ব্যাংক
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (SIBL)
এক্সিম ব্যাংক
নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশেষ সুবিধা বন্ধ করে দেন। এর পরই এসব ব্যাংকের নাজুক আর্থিক অবস্থা স্পষ্ট হয়। প্রথম ধাপে পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। লক্ষ্য—গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা ও আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা।
আপনার মতামত লিখুন :