অসমের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী জ়ুবিন গার্গ শুক্রবার সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করার সময় আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। অনুষ্ঠান সেরে ফেরার পথে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রবিবার তাঁর মরদেহ গুয়াহাটিতে পৌঁছালে, কাতারে কাতারে মানুষ রাস্তায় নেমে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রী গরিমা চোখে আঁশ ফেলেন।
অসমে জ়ুবিন শুধু একজন গায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক পুরো যুগের প্রতীক। অসমীয়া, বাংলা ও হিন্দি সহ একাধিক ভাষায় গান গেয়ে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। ২০০০ সালের মধ্যেই অসমের মানুষের অন্যতম প্রিয় শিল্পী হয়ে ওঠেন। ছবির গান ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করলেও অর্থের পিছনে তিনি কখনো ছুটেননি।
২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, জ়ুবিনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৭০ কোটি টাকা, যার মধ্যে বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য কাজ থেকে অর্জিত আয়ও অন্তর্ভুক্ত। তবে মাসিক আয় বা নির্দিষ্ট উপার্জনের সঠিক হিসাব কখনো প্রকাশ পায়নি।
শিল্পী ছিলেন নিজস্ব শৈলীর অধিকারী। বড় শহরের হইচই থেকে দূরে শান্তিতে থাকতে পছন্দ করতেন। নিজের স্টুডিয়ো ও বাড়িতে অসমের হস্তশিল্প, বাঁশের জিনিস এবং হাতে আঁকা ছবির মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতিকে বেঁধে রেখেছিলেন।
জ়ুবিনের গাড়ি ও মোটরবাইক ছিল তার বিশেষ ভরসা। মার্সিডিজ বেঞ্জ, রেঞ্জ রোভারসহ বড় সম্ভার ছিল তার। রোমাঞ্চ পছন্দ করলেও জল ভয় থাকত। তবুও সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে নেমেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রতিভাবান শিল্পী।
অসম ও ভারতের সঙ্গীতপ্রেমীরা আজও শোকাহত। জ়ুবিন গার্গের চলে যাওয়া মানে এক যুগের শেষ এবং অসমের সঙ্গীত জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি।
আপনার মতামত লিখুন :