ফিলিস্তিনে চলমান আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য শুরু হতেই আরব-মুসলিম দেশসহ আফ্রিকা ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি বিক্ষোভ জানিয়ে ওয়াকআউট করেন। এ সময় পরিষদকক্ষে তাঁর সামনে অনেক আসন ফাঁকা পড়ে থাকে।
নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভেতর-বাইরে বিক্ষোভ হয় ভাষণকে ঘিরে। ইসরায়েলি ও ইহুদি প্রবাসীদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনপন্থীরাও সমাবেশ করেন। ‘যুদ্ধ বন্ধ করুন’, ‘জিম্মিদের মুক্ত করুন’—এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ম্যানহাটান ও জাতিসংঘ চত্বর।
ভাষণে নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘ন্যায্য’ দাবি করে জাতিগত নিধনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও বিরোধিতা করেন তিনি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামাসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অজুহাতে নির্বিচার হামলার বৈধতা মেলে না।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া নারী-শিশুও রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার।
জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেন একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান। চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) তোলার দাবি জানান। ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতিগত নিধনের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
এদিকে যুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে গাজায় অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে ওই প্রশাসনের নেতৃত্বে রাখার প্রস্তাব উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজার রেমাল এলাকার এক বাসিন্দা আল-জাজিরাকে বলেন, “ইসরায়েলের হামলা যেকোনো মানবিকতার বাইরে। বিশ্ব শুধু দেখছে আমরা মরছি।
আপনার মতামত লিখুন :