অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে বিশ্বনেতারা। নিউ ইয়র্কের এক হোটেল স্যুইটে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রখ্যাত সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের সংকটময় সময়ে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে-ফ্রাইবারেগা। উপস্থিত ছিলেন স্লোভেনিয়া, সার্বিয়া, লাটভিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া, বুলগেরিয়া ও মৌরিতানিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানসহ ইউরোপীয় পরিষদের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানড্রেউ, কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি ও একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি।
বক্তারা ড. ইউনূসের দারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার অগ্রগতির দীর্ঘদিনের অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তারা বলেন, “আমরা আপনার এবং বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছি। আপনার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা প্রস্তুত।” কয়েকজন নেতা সরাসরি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন।
কেরি কেনেডি বাংলাদেশের মানবাধিকার অগ্রগতিকে “অসাধারণ” বলে উল্লেখ করেন। জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেলান ভেরভিয়ার জানান, প্রতিষ্ঠানটি শীঘ্রই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করবে।
অভূতপূর্ব এই সমর্থনে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। আপনাদের একসঙ্গে আমাদের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই অনন্য।” তিনি ১৫ বছরের দুর্নীতিপরায়ণ শাসনকে “রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প”-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা তার সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি তরুণ প্রজন্মের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন এবং আগামি ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দিকনির্দেশনা ও নৈতিক সমর্থন কামনা করেন।
সভায় এসডিজি কো-অর্ডিনেটর লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :