বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতের বিএনপি হবে গণতন্ত্রের দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো একটি জবাবদিহিতামূলক রাজনৈতিক দল। তিনি বলেন, অতীতের সাফল্য ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই দলকে আরও দায়িত্বশীল ও আধুনিকভাবে পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে নিতে চান।
মঙ্গলবার বিবিসি বাংলায় সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণ, দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। অতীতের ভালো কাজগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বুনিয়াদ গড়ে তুলব।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প ও প্রবাসী আয়—এই দুই খাতের ভিত্তি বিএনপির শাসনামলেই তৈরি হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে এবং বিদেশে খাদ্য রপ্তানিও করে।
তারেক রহমান বলেন, “যখন দেশে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ছিল, তখন বিএনপির হাত ধরেই বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরেছিল—এই ইতিহাসই আমাদের অনুপ্রেরণা।”
রাজনীতিতে জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অভিযোগ থাকতেই পারে। আমরা অভিযোগকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করব এবং সুযোগ পেলে প্রমাণ করব—জবাবদিহিতা কেমন হওয়া উচিত। এটা একদিনে সম্ভব নয়, সময় নিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশ গঠনের কাজে শুধু রাজনীতিবিদ নয়, সাধারণ নাগরিকেরাও অংশীদার। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে।”
প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আমি বিদেশে আছি। পরিবার ও দলের সহযোগিতা না থাকলে এই দূরত্ব থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব হতো না।”
তারেক রহমান দলের কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “নানা বাধা, দমন-পীড়নের মধ্যেও যারা দলকে সংগঠিত রেখেছেন, রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন, জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন—তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে থেকে যা কিছু ভালো শিখেছেন, সুযোগ পেলে তা দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিকাশে কাজে লাগাতে চান।


আপনার মতামত লিখুন :