ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি

জাতিসংঘের সঙ্গে ৫৭ বছরের পুরনো পরমাণু চুক্তি স্থগিত করল ইরান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৩, ২০২৫, ১২:২৪ অপরাহ্ন

ইরান জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি রবিবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরাঘচি বলেন, “আমরা আইএইএ’র সঙ্গে পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করেছি। জাতিসংঘ যদি এমন কোনো প্রস্তাব দেয় যা ইরানের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হয়, তবে আমরা আবার চুক্তিতে ফিরব।”

ইরান ১৯৬৮ সালে আইএইএ’র সঙ্গে নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি (এনপিটি) চুক্তি করে। তখন ইরানের রাজা রেজা শাহ দেশটির রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ছিলেন। চুক্তির মাধ্যমে ইরান প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না এবং আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতা করবে।

গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পর ইরান ও আইএইএ’র সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। আইএইএ জানায়, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত আছে, যার বিশুদ্ধতা ৬০ শতাংশ। ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহারযোগ্য।

৬ জুনের এক বিবৃতির পর এক সপ্তাহে ইসরায়েল ‘দ্য রাইজিং লায়ন’ নামের বিমান অভিযান চালায়। ১২ দিনব্যাপী সংঘাতে ইরানের সেনাপ্রধান, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও অন্তত ১২ জন জ্যেষ্ঠ পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন। পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে। তবে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের কোনো হদিস এখনও মেলেনি।

পরবর্তীতে আইএইএ তেহরানে সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করলে ইরান জানায়, তারা সংলাপের জন্য প্রস্তুত, তবে পরমাণু স্থাপনা দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই।

সেপ্টেম্বরে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক হলেও ইরানের অমতে জাতিসংঘের প্রস্তাব গ্রহণ না হওয়ায় বৈঠক ব্যর্থ হয়। এরপর জাতিসংঘ ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

রোববারের সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ফের আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। ইউরোপের সঙ্গে বৈঠকের আর কোনো ভিত্তি নেই।”