বিশ্ব খাদ্য ফোরামের সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টা

ক্ষুধা অভাবের কারণে হয় না, এটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা : ড. ইউনূস


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৩, ২০২৫, ৮:৫১ অপরাহ্ন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ক্ষুধা মানুষের অভাব নয়, এটি পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কাঠামোর ব্যর্থতার ফল। সোমবার (১৩ অক্টোবর) ইতালির রোমে বিশ্ব খাদ্য ফোরামের সমাবেশে প্রধান বক্তার ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “২০২৪ সালে বিশ্বের ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত ছিল। অথচ আমরা পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করি। এটি উৎপাদনের ব্যর্থতা নয়, এটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা। আমরা যেখানে ক্ষুধা দূরীকরণে কয়েক বিলিয়ন ডলার তুলতে পারিনি, সেখানে বিশ্ব অস্ত্রে ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে।”

ড. ইউনূস বাংলাদেশের প্রজন্মের অবদানকেও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “গত বছর আমাদের তরুণরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল জনগণকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ন্যায়বিচার, অন্তর্ভুক্তি ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে একটি সমাজ গড়া।”

তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও জনগণের ক্ষমতায়নের অঙ্গীকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে।

ক্ষুধা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি ৬টি পদক্ষেপ প্রস্তাব করেন—

১. ক্ষুধা-সংঘাত চক্র ভাঙা ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
২. এসডিজি অর্থায়ন বাস্তবায়ন, জলবায়ু পদক্ষেপ ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
৩. আঞ্চলিক খাদ্য ব্যাংক গঠন করে সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল করা।
৪. স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিশেষ করে তরুণ, কৃষক, নারী ও খাদ্যপ্রক্রিয়াকর্মীদের জন্য অর্থ, অবকাঠামো ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা।
৫. রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করা এবং বাণিজ্যনীতিকে খাদ্যনিরাপত্তার সহায়ক করা।
৬. প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, বিশেষ করে গ্রামীণ ও গ্লোবাল সাউথ-এর তরুণদের জন্য।

ড. ইউনূসের বক্তৃতা মূলত ক্ষুধা দূরীকরণ ও ন্যায়সঙ্গত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির ওপর কেন্দ্রিত ছিল।