মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘটেছে এক নজিরবিহীন ঘটনা। পুরো ইনিংসের ৫০ ওভারই বল করেছেন স্পিনাররা—ওয়ানডে ইতিহাসে যা প্রথমবারের মতো ঘটল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল জানত মিরপুরের উইকেট স্পিন সহায়ক হবে। সেজন্য তিন স্পিনার নিয়েই মাঠে নামে তারা। কিন্তু প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা বুঝিয়ে দেয়—এ উইকেট কেবল স্পিন সহায়ক নয়, একেবারে স্পিনারদের স্বর্গ। তাই তড়িঘড়ি করে দলে ডাকা হয় ত্রিনিদাদের বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনকে, যিনি রাত আড়াইটায় ঢাকা পৌঁছে পরদিনই একাদশে জায়গা পান।
অধিনায়ক শেই হোপ চারজন নিয়মিত স্পিনার—আকিল হোসেন, গুডাকেশ মোতি, কেভিন সিনক্লেয়ার ও রোস্টন চেজকে নিয়ে শুরু করেন বোলিং। পেসারদের হাতে ছিল মাত্র ১০ ওভারের দায়িত্ব। কিন্তু মাঝপথে হোপ আক্রমণে আনেন ওপেনার ও পার্ট-টাইম স্পিনার আলিক আথানজেকে, যিনি জ্বলে ওঠেন দুর্দান্ত বোলিংয়ে—১০ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচায় তুলে নেন ২ উইকেট, দেন ৫০টি ডট বল!
তার পারফরম্যান্সে অনুপ্রাণিত হয়ে শেষ পর্যন্ত বাকি ওভারগুলোও স্পিনারদের দিয়েই করান হোপ। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের পুরো ৫০ ওভারই সম্পন্ন হয় স্পিনে।
এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের ৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো দল ইনিংসের সব ৫০ ওভার স্পিনারদের হাতে তুলে দিল।
এর আগে সর্বোচ্চ ৪৪ ওভার স্পিন দিয়ে বোলিং করেছিল শ্রীলঙ্কা (১৯৯৬, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালে)।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে কখনো ৩৫ ওভারের বেশি স্পিন করায়নি—এবার তারা গড়ল এক ঐতিহাসিক রেকর্ড।
আপনার মতামত লিখুন :