সঞ্চয়পত্রসহ পাঁচ রিটেইল সেবা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক


বাংলার মুখ ডেস্ক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ৭:৩৫ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ডসহ সাধারণ মানুষের জন্য দেওয়া পাঁচটি রিটেইল সেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, ভবনের নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিকায়ন এবং উন্নত ভল্ট সুবিধা তৈরির প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই পদক্ষেপ।

ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বর থেকে মতিঝিল সদর দপ্তরসহ দেশের সব শাখায় এসব সেবা বন্ধ হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে; জনসাধারণকে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৮টি কাউন্টারের মাধ্যমে ১০ ধরনের সরকারি সেবা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে যে পাঁচটি সেবা বন্ধ হচ্ছে—

  • সঞ্চয়পত্র আদান-প্রদান

  • প্রাইজবন্ড বিক্রি

  • ত্রুটিযুক্ত নোট বিনিময়

  • পিএডি আদান-প্রদান

  • চালানের ভাংতি

এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১২টি কাউন্টারও বন্ধ থাকবে। তবে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক প্রয়োজনে একটি বিশেষ কাউন্টার চালু থাকবে।

সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবন কেপিআই (Key Point Installation) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। একই ভবনে মুদ্রা ইস্যু-বিতরণ, ভল্ট ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক রিজার্ভ তদারকি—এসব স্পর্শকাতর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেখানে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। অতীতে রিজার্ভ হ্যাকিং, সঞ্চয়পত্র জালিয়াতি এবং ভবনের ভেতর ছবি–ভিডিও ধারণের মতো ঘটনা নিরাপত্তা সংশয় আরও বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করে যে, সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রির মতো সেবা দেশের ৬০টির বেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখার মাধ্যমেই সহজে দেওয়া সম্ভব, এবং বিশ্বের কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি জনগণকে এমন রিটেইল সেবা দেয় না।

সেবা বন্ধ হলেও আগে ইস্যু করা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তির আগ পর্যন্ত সব নিয়মিত সুবিধা বহাল থাকবে। মেয়াদ শেষ হলে সেগুলো পুনঃবিনিয়োগ করা যাবে না। সঞ্চয়পত্র সংশ্লিষ্ট তথ্য হালনাগাদ, নমিনি পরিবর্তন, আগাম নগদায়ন ও অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে।