কোক স্টুডিও বাংলা দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় সুফি গান “মাস্ত কালান্দার”- এর এক নতুন উপস্থাপনার মাধ্যমে সিজন ৩-এর ইতি টানতে যাচ্ছে। উপমহাদেশের জনপ্রিয় সুফি গানটির একটি সমসাময়িক পরিবেশনা গেয়েছেন বাংলাদেশের সঙ্গীত আইকন রুনা লায়লা। ১৬ নভেম্বর রুনা লায়লার জন্মদিনের ঠিক আগের দিনে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে গানটি। কোক স্টুডিও বাংলা এই গানটির মাধ্যমে উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় ধরে ভালোবাসা পাওয়া বাংলাদেশের এই কণ্ঠের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।
শায়ান চৌধুরী অর্ণব ও অদিত রহমান প্রযোজিত গানটি একটি নতুন রূপে হাজির হয়েছে। এতে চিরায়ত কাওয়ালির আধ্যাত্মিক সুর, বাংলার লোকজ ভাব ও আধুনিক সঙ্গীতের মিশ্রণ ঘটেছে। গানটির শুরুতেই রয়েছে মাখন মিয়ার কন্ঠে হাসন রাজার বাংলা গানের একটি ছোট হৃদয়গ্রাহী অংশ। পরে ধীরে ধীরে যোগ হয়েছে সুফি ঘরানার গভীরতা, লোকজ ছন্দ ও সমসাময়িক বাদ্যযন্ত্র। গানে একসঙ্গে কাজ করেছেন দুই প্রজন্মের শিল্পীরা। গানটিতে ফুয়াদ নাসের বাবুর পাশাপাশি কোক স্টুডিও বাংলার নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে একই সাথে নস্টালজিক ও সতেজ এক সঙ্গীত অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়েছে ।
রুনা লায়লার দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে ‘মাস্ত কালন্দর’ গানটি একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে গান গাওয়া এই শিল্পী ১৮টিরও বেশি ভাষায় গান করেছেন। তিনি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গীত–সেতুবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। ‘মাস্ত কালন্দর’-এর কোক স্টুডিও বাংলার এই নতুন এই উপস্থাপনা তাঁর গাওয়া কালজয়ী সংস্করণটিকে আবারও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে।
গানটি নিয়ে রুনা লায়লা বলেন, “মাস্ত কালন্দর সবসময়ই আমার হৃদয়ের খুব কাছের একটি গান। নতুনভাবে, তরুণ শিল্পীদের সঙ্গে আবার গানটি গাইতে পেরে আমি আনন্দিত। প্রজন্ম–পরম্পরায় গানটির নতুনভাবে ফিরে আসা আমাকে আনন্দ দিয়েছে।”
শুরু থেকেই কিউরেটর, গায়ক ও সুরকার হিসেবে কোক স্টুডিও বাংলার আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে ছিলেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব। তিনি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে কোক স্টুডিও বাংলার নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তার সঙ্গে কাজ করেছেন সুরকার ও প্রযোজক অদিত রহমান যিনি সন্ধ্যাতারা, নাসেক নাসেক ও ভবের পাগল–এর মতো জনপ্রিয় গানের আধুনিক সঙ্গীতায়নের জন্য পরিচিতি লাভ করেছেন। তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় সিজন ৩ একটি আধুনিক ও হৃদয়স্পর্শী সমাপ্তি পেতে যাচ্ছে।
গানটি নিয়ে অর্ণব বলেন, “এই গান স্মৃতি, ভক্তি ও সংস্কৃতির অনুভূতি বহন করে। রুনা লায়লা আপুর কণ্ঠে নতুনভাবে এই গানটিকে পাওয়া আমাদের সবার জন্য গর্বের মুহূর্ত। ‘মাস্ত কালন্দর’ শুধু গান নয়, এটি সকল শ্রোতার সাথে এক সেতুবন্ধন যারা এই গানকে জীবন, শিক্ষা ও ভালোবাসার সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছেন।”
ঐতিহ্য, কণ্ঠ ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘মাস্ত কালন্দর’ কোক স্টুডিও বাংলার সিজন ৩-এর একটি দারুণ পরিসমাপ্তি আনছে। গানটি সীমান্ত পেরিয়ে বহু মানুষের কাছে পৌঁছালেও এর শেকড় বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
আপনার মতামত লিখুন :