চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতার একটি বড় অংশ—প্রায় ৬০ শতাংশ—দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি অপারেটরদের হাতে চলে যাচ্ছে। সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) কাঠামোর অধীনে গতকাল ঢাকায় দুটি প্রধান টার্মিনালের জন্য গোপনীয় শর্তে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া টার্মিনাল ৩৩ বছরের জন্য এবং সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ২২ বছরের জন্য পরিচালনা করবে। তবে লালদিয়া টার্মিনালের চুক্তি মাত্র দুই সপ্তাহে সম্পন্ন হওয়ায় প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক দল, বাম সংগঠন এবং ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রস্তাব জমা থেকে নৌপরিবহন ও আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন—সবকিছুই অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে শেষ করা হয়েছে। ১৬ নভেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এক দিনের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
বন্দরবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শর্তগুলো দেশের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলে ভবিষ্যতে বড় ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়েকে এবং নিউমুরিং টার্মিনাল শিগগিরই আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। বে-টার্মিনালের অংশ ডিপি ওয়ার্ল্ড ও সিঙ্গাপুরের পিএসএ’র হাতে যাওয়ার প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত।
এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো চুক্তির বিরোধিতা করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলাম চুক্তিকে “জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি” ও “গোপনীয় সম্পদ হস্তান্তর” আখ্যা দিয়ে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের কেউ কেউ চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন, আবার কেউ বিদেশি দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন—তবে গোপন চুক্তির বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন।
বিতর্কের মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, বন্দরের মালিকানা বাংলাদেশেরই থাকবে; বিদেশি অপারেটর শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। তিনি মনে করেন, দুর্বল পারফরম্যান্স ও দুর্নীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অপারেটরের অভিজ্ঞতা জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :