ট্রাম্প–মামদানি বৈঠকের অপ্রত্যাশিত সুর: প্রশংসার উৎস কোথায়


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২২, ২০২৫, ১২:০৫ অপরাহ্ন

দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওভাল অফিসে বৈঠকের সংখ্যা বাড়লেও, শুক্রবারের এক সাক্ষাৎ বিশেষ নজর কাড়ে—নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।

নির্বাচন চলাকালে দুই পক্ষের তীব্র বাকযুদ্ধ ও সমালোচনা মাথায় রেখে অনেকে মনে করেছিলেন, দ্বন্দ্বপূর্ণ পরিবেশই হয়তো তৈরি হবে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের সেই বৈঠক ছিল আশ্চর্যজনকভাবে বন্ধুসুলভ এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরের।

অপ্রত্যাশিত সৌহার্দ্য

সাক্ষাৎ জুড়ে মতপার্থক্য নয়, বরং মিল খোঁজার চেষ্টাই বেশি চোখে পড়ে। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন,
“আমার ধারণার চেয়েও বেশি বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। তিনি কিছু চমৎকার কাজ করবেন।”

মামদানিও আক্রমণাত্মক সুর এড়িয়ে যান। সাংবাদিকরা তাঁকে ইসরায়েল–গাজা প্রসঙ্গ বা ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা নিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি দ্রুত আলোচনাকে ফিরিয়ে আনেন একটি সাধারণ ইস্যুতে—জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ।

একজন প্রেসিডেন্ট, যেন রক্ষাকবচ

কয়েকটি কঠিন প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প নিজেই মাঝে মাঝে মামদানির হয়ে উত্তর দিতে এগিয়ে আসেন।
এক সাংবাদিক যখন জিজ্ঞেস করেন, মামদানি কি তাঁকে আগে ‘স্বৈরাচারী’ বলেছেন, ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেন, “আমাকে তো আরও খারাপ বলেও ডাকা হয়েছে।”

অভিবাসী বহিষ্কার–ইস্যুতে অতীতের উত্তেজনার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে ট্রাম্প তা এড়িয়ে বলেন, “তিনি অপরাধ চান না, আমিও না। এখানে আমাদের সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।”

রাজনৈতিক বাস্তবতার পাঠ

অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এই সৌহার্দ্যের পেছনে রয়েছে বাস্তব রাজনৈতিক হিসাব। জীবনযাত্রার ব্যয়—মামদানির নির্বাচনী জয়কে সামনে আনা সেই ইস্যুতেই এখন সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে এই মুহূর্তে নবনির্বাচিত, জনপ্রিয় একজন মেয়রের সঙ্গে প্রকাশ্য মুখোমুখি সংঘাতে যাওয়াকে হোয়াইট হাউস হয়তো প্রয়োজন মনে করেনি।

তাছাড়া, ট্রাম্পের শৈলী অনুযায়ী, তিনি সাফল্যকে সম্মান করেন—বিশেষত নিউইয়র্কের কুইন্সে জয়ী হওয়া একজন তরুণ রাজনীতিবিদকে।

নতুন ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্কের ইঙ্গিত

বৈঠকের শেষ দিকে, যখন একজন সাংবাদিক ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন নিউইয়র্কবাসী তাঁকে ভালোবাসে কি না, তখন মামদানি নিজেই বলেন,
“সাম্প্রতিক নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নে অনেক নিউইয়র্কবাসী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন। আমরা দুজন মিলেই মানুষের ব্যয় কমাতে কাজ করব—আমি সেটির অপেক্ষায় আছি।”

অপ্রত্যাশিতভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠক হয়তো ইঙ্গিত দিচ্ছে—আমেরিকার সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।