দেশজুড়ে ভূমিকম্পের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার নরসিংদীর ভূমিকম্পের মাত্রা কাটতে না কাটতেই শনিবার সকাল ও সন্ধ্যায় ঢাকায় ও আশুলিয়ায় পুনরায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। যদিও রিখটার স্কেলে এর মাত্রা কম ছিল, আতঙ্ক মানুষের মনে কমছে না।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্লেট টেকটোনিক কারণে দেশটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ—বন্যা, নদী ভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্প—এর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তরে তিব্বত সাব-প্লেট, ইন্ডিয়ান প্লেট এবং দক্ষিণে বার্মা সাব-প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
ভূমিকম্পে আক্রান্ত মানুষদের নিরাপত্তার জন্য কিছু করণীয় ও নিষিদ্ধ আচরণের দিকনির্দেশনা দেওয়া হলো:
করণীয়:
কম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত হবেন না।
বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে শক্ত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন।
রান্নাঘরে থাকলে গ্যাস চুলা বন্ধ করে নিরাপদে বের হন।
বিম, কলাম, পিলারের পাশে বা শক্ত বেঞ্চের নিচে আশ্রয় নিন।
ঘরের বাইরে থাকলে গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও উঁচু ভবন থেকে দূরে খোলা জায়গায় অবস্থান করুন।
গণজমায়েত স্থানে হঠাৎ বের হতে না গিয়ে মাথা ঢেকে বসে থাকুন।
ভাঙা দেয়ালের নিচে চাপা পড়লে বেশি নড়াচড়া করবেন না, মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।
একবার কম্পন থামলেও খালি জায়গায় বের হয়ে নিরাপদ অবস্থান নিন।
লিফট ব্যবহার করবেন না; সিঁড়ি দিয়ে ধীরে দ্রুত বের হোন।
গাড়িতে থাকলে সেতু, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামান এবং ভিতরে থাকুন।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেমন রেডিও, টর্চলাইট, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার জিনিস বাড়িতে রাখুন।
করা উচিত নয়:
ভবন থেকে লাফ দিয়ে নামা বা দ্রুত লিফট ব্যবহার করা।
বারান্দায় অবস্থান করা।
ধ্বংসস্তুপে আটকে গেলে:
ধীরে বের হওয়ার চেষ্টা করুন; বেশি নড়াচড়া করবেন না।
ম্যাচ বা আগুন ব্যবহার করবেন না।
চিৎকার না করে পাইপ বা দেয়াল দিয়ে সিগন্যাল দিন, মোবাইল ও টর্চ ব্যবহার করুন।
সতর্কতা মেনে চললে ভূমিকম্পের সময় জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :