দেশের অর্থনীতির প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত ঢাকা–চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ককে ছয় লেনের টোলভিত্তিক অ্যাকসেস কন্ট্রোল হাইওয়ে ও উভয় পাশে সার্ভিস রোডসহ মোট ১০ লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা। এডিবির সহায়তায় ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সওজ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন জানান, প্রকল্পে অর্থায়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সরকার এডিবি, বিশ্বব্যাংক, এআইআইবি ও জাইকার মতো বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
সওজের তথ্য অনুযায়ী, এই মহাসড়ক দিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৮০ শতাংশের বেশি পণ্য পরিবহন হয়। যানজটের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৮৫ কোটি টাকার শ্রমঘণ্টা ও জ্বালানি অপচয় হচ্ছে। ২০১৯ সালে দৈনিক যানবাহন চলাচল ছিল প্রায় ৩৫ হাজার, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজারে; আগামী পাঁচ বছরে তা ৭০–৮০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
২০১৬ সালে চার লেনে উন্নীত করার পরও বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সড়কটি। নতুন প্রকল্পে ছয় লেনের মূল হাইওয়ের পাশাপাশি দুই পাশে চার লেনের সার্ভিস রোড, ইলেকট্রনিক টোল ব্যবস্থা, জরুরি লেন, আধুনিক মনিটরিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া ছয়টি মাল্টিলেভেল ক্রসিং ও ২০টির বেশি ফ্লাইওভার ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি ১ থেকে ১.৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং চট্টগ্রাম বন্দর, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও মীরসরাই শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসবে।
অর্থায়ন নিশ্চিত হলেই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সওজ।
আপনার মতামত লিখুন :