জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেতরে বাড়তে থাকা অস্থিরতা নতুন করে আলোচনায় এনেছে দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা। দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারার সাম্প্রতিক পদত্যাগের পর শীর্ষ ও মধ্যম সারির আরও কয়েকজন নেতা সরে দাঁড়াতে পারেন—এমন আভাস মিলছে দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে।
সূত্রগুলো বলছে, নীতিগত মতবিরোধ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা সামনে এলেও মূল টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্ভাব্য জোট গঠন নিয়ে। দলটির ভেতরে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি রয়েছে, বিশেষ করে নারী নেতৃত্বের মধ্যে।
এনসিপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ ও দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা—যাদের মধ্যে নারী নেত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য—জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হলে একযোগে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় সাম্প্রতিক বৈঠকেও এই আপত্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “জোট প্রশ্নে দলে মতভেদ তৈরি হয়েছে। তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে কারও পদত্যাগ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”
নির্বাচনের ঠিক আগে এই অনিশ্চয়তা এনসিপির জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা দলটির জন্য এখন ভুল সিদ্ধান্ত উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ পাচ্ছে দলীয় অন্দরমহলে।
আপনার মতামত লিখুন :