ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৩, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন সব দেশের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জানান, এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং এটি একটি ‘চূড়ান্ত আদেশ’।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে টানা তৃতীয় সপ্তাহে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটেই এই কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন ট্রাম্প। তবে ‘ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য’ বলতে কী ধরনের লেনদেন বোঝানো হচ্ছে—সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। কোন কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাও স্পষ্ট করা হয়নি।

ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। এ ছাড়া ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারতের সঙ্গেও তেহরানের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই শুল্ক এসব দেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ তুলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, বিমান হামলাসহ সামরিক বিকল্প এখনো বিবেচনায় রয়েছে।

ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে রয়েছে দেশটির মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে রিয়ালের মান তীব্রভাবে পড়ে যাওয়ার পর বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসন অবসানের দাবিতে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী ও অন্তত ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বেশিরভাগই সরাসরি প্রতিবেদন করতে পারছে না।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানি কর্মকর্তারা সম্প্রতি তার সঙ্গে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পদক্ষেপ’ নিতে হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে নতুন শুল্ক আরোপ—সব মিলিয়ে ইরানের অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।