মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় কাতারে শক্তিশালী ‘টাইফুন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য ইরানি হামলা প্রতিহত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে লন্ডন।
শুক্রবার যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করা হয়েছে। দোহা সরকারের আমন্ত্রণে গঠিত যৌথ ‘১২ নম্বর স্কোয়াড্রন’-এর আওতায় এই জেটগুলো কাজ করবে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি বলেন, এই সহযোগিতা দুই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি উপসাগরীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন নিয়ে গঠিত একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বহরকে ‘আর্মাডা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি ইরানের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সমন্বিত সামরিক প্রস্তুতি ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে একটি প্রতিরক্ষামূলক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের ‘শাহেদ-১৩৬’ কামিকাজে ড্রোন মোকাবিলায় টাইফুন জেটগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর থাকায় এটিকে ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধভীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
আপনার মতামত লিখুন :