দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করাকেই রাষ্ট্র সংস্কারের মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর মতে, অবকাঠামো নয়—মানসম্মত শিক্ষা, প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও মূল্যবোধভিত্তিক পাঠ্যক্রমই টেকসই সামাজিক পরিবর্তনের চাবিকাঠি। দেশকে এগিয়ে নিতে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
শনিবার গুলশানে ‘আমরা ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তারেক রহমান বলেন, রাস্তায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া গেলে বহু সমস্যার সমাধান সম্ভব। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে পরিবারভিত্তিক ও স্বচ্ছ করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যাতে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ কমে।
শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো ও পাঠ্যক্রমে সামাজিক-নৈতিক মূল্যবোধ যুক্ত করাই অগ্রাধিকার। ছোটবেলা থেকেই ন্যায়-অন্যায়ের বোধ গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে সমাজে অপরাধ কমবে—এমন বিশ্বাস তাঁর। শিশুদের মধ্যে মমতা ও দায়িত্ববোধ তৈরিতে বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রাণী পালনের মতো উদ্যোগ নিয়েও ভাবনার কথা জানান তিনি।
ঢাকার চাপ কমাতে আশপাশের জেলা শহরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা, দ্রুত রেল যোগাযোগ এবং গণপরিবহনে নতুন সমাধানের ইঙ্গিত দেন তারেক রহমান। তরুণদের ইন্টারনেট আসক্তি কমাতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।
আলোচনায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, যিনি সাইবার বুলিং মোকাবিলায় ডিজিটাল শিক্ষা ও স্থানীয় কমিউনিটি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পুরো আলোচনায় একটি বার্তাই স্পষ্ট—রাষ্ট্র গঠনের কেন্দ্রে থাকবে মানুষ, মূল্যবোধ ও অংশগ্রহণ।
আপনার মতামত লিখুন :