ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণে ইসরায়েলের প্রভাব কমছে—এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে তেল আবিবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনায় ইসরায়েলের ভূমিকা কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। কয়েক মাস আগেও আঞ্চলিক আধিপত্যের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে যে আত্মবিশ্বাস ছিল, এখন তা ম্লান।
ইসরায়েলি বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গের ভাষ্যে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মেনে গাজায় যুদ্ধ দ্রুত গুটিয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলের প্রভাব সঙ্কুচিত, সিরিয়ায় কার্যত হাত বাঁধা। গাজা ইস্যুতেও কাতার ও তুরস্ককে যুক্ত করে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের আপত্তি উপেক্ষা করেছে।
সিরিয়ায় নতুন সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে নেতানিয়াহুকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। লেবাননে হিজবুল্লাহ–ইসরায়েল উত্তেজনাও ওয়াশিংটনের ‘সবুজ সংকেতের’ ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান প্রশ্নে ইসরায়েলের প্রভাব আরও অনিশ্চিত—এমনকি ইসরায়েলের উদ্বেগ পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় যেতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
নেতানিয়াহুর সাবেক সহকারী মিচেল বারাক বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত নয়, চুক্তির পথে হাঁটতে পারেন—যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াবে। চ্যাথাম হাউজের যোসি মেকেলবার্গের মতে, ইরান ইসরায়েলের ‘বিগ ব্যাড উলফ’; সম্ভাব্য সংঘাত নেতানিয়াহুর ঘরোয়া সংকট—দুর্নীতির মামলা, বিচার বিভাগ সংস্কার বিতর্ক ও ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা—থেকে নজর ঘোরাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, বাস্তব যুদ্ধের চেয়ে সংঘাতের হুমকিই নেতানিয়াহুর জন্য বেশি কার্যকর। বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক বিকল্পের অভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে টিকে থাকতে সাহায্য করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :