মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান শুক্রবার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪’-এর অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ২২তম ধাপের এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার দুপুরে পরিচালিত হামলায় খুররামশাহর–৪, খাইবার ও ফাত্তাহ ধরনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের তেল আবিব পর্যন্ত বিস্তৃত কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।
তেহরান বলছে, এই হামলা মিনাব শহরের একটি স্কুলে শিশু নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চালানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, বিশেষ করে খুররামশাহর–৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারী ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং অত্যন্ত উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর ও হাইফা অঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ আইআরজিসি কর্মকর্তা বলেছেন, গত কয়েক দিনে ইরান মূলত তুলনামূলক পুরোনো প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে নতুন প্রজন্মের অস্ত্র এখনো পুরোপুরি মোতায়েন করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেন, আক্রমণ অব্যাহত থাকলে ইরানও পাল্টা অভিযান চালিয়ে যাবে। তার ভাষায়, “দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য আমরা প্রস্তুত।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জবাবে ইরান ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা হামলার কথা জানিয়ে আসছে।
তবে এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, সংঘাতের বিস্তার হলে এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :